কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারি থেকে মুক্ত পেতে কতদিন লাগবে

আন্তর্জাতিক

পৃথিবী আজ থেমে গেছে। পৃথিবীর যেসব জায়গায় হাটাচলা করা যেতোনা সেখানে আজ মরুভূমির মতো ফাঁকা পরে আছে। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, স্কুল কলেজ বন্ধ, ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা, গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ – এসব কারণে মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একটি ছোট ভাইরাস মোকাবেলা করতে পুরো বিশ্ব যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে , তা নজিরবিহীন। কিন্তু বিশ্ব বাসীর প্রশ্ন, এর শেষ কোথায়? মানুষ কবে থেকে তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যেতে পারবে?

বরিস জনসন (ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ১২ সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর ঢেউ উল্টোপথে ঘুরিয়ে’দিতে সক্ষম হবে ব্রিটেন। এর মধ্যে মোটে দুই সপ্তাহ পার হয়েছে এখন পর্যন্ত। দুই সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে, কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি ভাবে শেষ হতে অনেক সময় বাকি। সম্ভবত কয়েক বছর পর্যন্ত লাগতে পারে।

এটা পরিষ্কার যে, যেভাবে বড় বড় শহর বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরারা উপর বিধিনিষেধ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এভাবে সবকিছু বন্ধ থাকলে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব পরবে মারাত্মক ভাবে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশগুলোকে একটি সুকৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই বিধিনিষেধগুলো প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

Coronavirus (COVID-19)

একথা সঠিক যে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এগুলো বিধিনিষেধ তুলে দিলে সংক্রমণের সংখ্যা অনেক হরে বৃদ্ধি পাবে। অধ্যাপক মার্ক উলহাউজ (The University of Edinburgh) বলেছেন, “এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কৌশল কী হবে এবং সেখান থেকে আমরা কিভাবে বের হয়ে আসবো -এনিয়ে নিয়ে বড় সমস্যা আছে,” । তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে পৃথিবীর কোন দেশেরই কৌশল নেই। এই কৌশল ঠিক করা বড় ধরণের বৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এর জন্য তিনটি উপায় আছে।

  • টিকা দেয়া
  • বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ফলে তাদের মধ্যে এনিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে
  •  অথবা স্থায়ীভাবে মানুষ এবং সমাজের আচার-আচরণে পরিবর্তন নিয়ে আসা

কোভিড-১৯ টিকা আসতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৮ মাস। এই টিকা গ্রহণ করলে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসলেও তারা অসুস্থ হবে না। যত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দিবে ততই ভালো। যদি মোট জনসংখ্যার ৬০% টিকা দেয়া হয়, তাহলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে না। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক-ভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে আমেরিকায় এক ব্যক্তির দেহে। করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য বেশ দ্রুত গতিতে কাজ চলতেছে। কিন্তু এটি সফল হবে কিনা কিংবা বিশ্বজুড়ে এই টিকা দেয়া যাবে কি না – সে নিশ্চয়তা নেই।

স্যার প্যাট্রিক ভ্যালান্সি (ব্রিটেনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা) বলেন, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কখন কোন পর্যায়ে যাবে সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া সম্ভব নয়।”

অধ্যাপক নিল ফার্গুসন (Imperial College London) বলেন, “আমরা সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে রাখার কথা বলছি যাতে করে দেশের একটি কম সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়”।

প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে প্রাকৃতিক ভাবে। ভেষজ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে উঠে।

কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত পেতে বিকল্প কী?

বর্তমানে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার মধ্যে কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন: কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি জোরদার করা। অধ্যাপক উলফহাউজ বলছিলেন, “আমরা শুরুতেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সনাক্ত করেছি এবং তারা যাদের সংস্পর্শে গিয়েছে তাদেরও খুঁজে বেরি করেছি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।” তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ এর ঔষধ আবিষ্কার করা সম্ভব হলে সেটি অন্য কৌশলগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সাহায্য করবে।

মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দেয়ার সময় ঔষধ প্রয়োগ করলে তাহলে সেটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে যাবার বিষয়টি বন্ধ করতে পারে। অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেবার মাধ্যমে এই রোগের মাত্রা কমিয়ে আনা যাতে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের উপর চাপ কমে। এটি করা সম্ভব হলে সবকিছু বন্ধ করে দেয়া বা লকডাউনের আগে দেশগুলো বেশি রোগী সামাল দিতে পারবে।

এছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে বেশি শয্যার ব্যবস্থা করে অধিক সংখ্যক রোগী সেবা দেয়া সম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এটিও একটি উপায়। ব্রিটেনের চিকিৎসা বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ক্রিস হুইটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে বর্তমান পরিস্থিতি তেকে বের হয়ে আসার উপায় কী?

তিনি বলেন, ” টিকা দেয়াটাই হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে সমাধান। আমরা আশা করছি এটা যত দ্রুত সম্ভব হবে।” এছাড়াও বিজ্ঞান এর সমাধান খুঁজে বের করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published.