করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

করোনাভাইরাস (Corona Virus) এর নাম শুনলেই ভয়, আতঙ্কে বুকের ভিতর কেঁপে উঠে। চোখের সামনে ভেসে উঠে মৃত্যুর মিছিল। প্রশ্ন উঠে, করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় কি ? করোনাভাইরাস হলো ভাইরাসের একটি শ্রেণী যেগুলি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানব দেহের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেকসময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয়, কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাসের মতো হয়ে থাকে, যেমন সার্স, মার্স এবং কোভিড-১৯।

সারা বিশ্ব কোভিড-১৯ এর কারণে ভয়, আতঙ্কে আছে। কোনোভাবেই পাচ্ছে না, পারছে না ঠেকাতে মৃত্যু। পৃথিবী যেন স্বার্থপর হয়ে গেছে। আমরা মানুষ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। আমরা পারবো না এমন কিছু পৃথিবীতে নেই। আমাদের মনোবল বাড়াতে হবে। যেকোনো রোগ মনোবল দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়। আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আমরা কোরোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মৃত্যুর মিছিল থেকে আমাদের নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতে পারি।
করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়
করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপায় জানার পূর্বে করোনাভাইরাস থেকে বাচার চেষ্টা ও সতর্কতা এই (লিঙ্কের) সংবাদটি অনেক গুরুতপূর্ণ যা এই পোস্টার সাথে সম্পর্কিত। চলুন শুরু করি মূল আলোচনায় :

১। কালোজিরা বা কালিজিরা ( Fennel flower, Blackseed or Black caraway):- মৃত্যু ছাড়া সর্ব রোগের মহাওষুধ বলা হয় কালোজিরাকে। আদিকাল থেকে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। পবিত্র ইসলাম ধর্মে এর উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। এর পুষ্টিগুণ আলোচনা করে শেষ করা যাবে না। প্রতি গ্রাম কালিজিরা পুষ্টি উপাদান হলো-প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ১০৫ মাইক্রোগ্রাম, কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম, ফসফরাস ৫.২৬ মিলিগ্রাম, জিংক ৬০ মাইক্রোগ্রাম, ফোলাসিন ৬১০ আইউ। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আরও আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি ছাড়াও জীবাণুনাশক বিভিন্ন উপাদান যা হাজারও উপকার করে।

জ্বর, সর্দি, কাশি, কফ, অরুচি, উদরাময়, গলা ব্যথা ও দাঁতের ব্যথা, শরীর ব্যথা, বাতের ব্যথা, পেটের বাথা, মাথাব্যথা কমাতে, মাথা ঝিমঝিম করা, মাইগ্রেন নিরাময়ে যথেষ্ট উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে। পেটফাঁফা, চামড়ার ফুসকুরি, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ, এলার্জি, একজিমা, এজমা, ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাসট্রিক আলসার, জন্ডিস, খোসপাঁচড়া, ছুলি বা শ্বেতি, অর্শরোগ, দাদে কালিজিরা অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এর উপকারিতা লিখে শেষ করা যাবে না। এর জন্য একটি পরবর্তীতে পোস্ট করবো ‘ইনশা আল্লাহ’। গরম খাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালিজিরা বেশ উপকারী। কালিজিরা সরাসরি তেল হিসেবে, কাঁচা চিবিয়ে, ভেজে পরিমাণমতো খাওয়া যায়।

২। রসুন (Garlic):- বৈজ্ঞানিক নাম অ্যালিয়াম স্যাটিভাম (Allium sativum)। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, রসুন একাধারে ভাইরাসরোধী, ছত্রাকরোধী এবং ব্যাকটেরিয়ারোধী পেনিসিলিনের মতো জীবাণুনাশক। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফসফরাস, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, জিংক ও ভিটামিন সি, রিবোফ্লাভিন। রসুনের উপকারিতা লিখে শেষ করা যাবে না। আর তাই রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। রসুন অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিফাংগাল, অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে। যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখে। তাই নিয়মিত পরিমান মতো রসুন খেতে পারেন।

৩। আদা (Ginger) :- আদা আমার পছন্দের একটি প্রিয় ভেষজ খাদ্য। আদার ভেষজ উপকারিতা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম সাথে যথেষ্ট পরিমাণ আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ। এছাড়া সামান্য পরিমাণে আছে জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আদা থাকলে যে কোনো ধরনের ঠাণ্ডা সংক্রান্ত রোগবালাই, কাশি ও হাঁপানির তীব্রতা কমিয়ে দেয়। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে পাবে উপকারিতা। গরম পানিতে হালকা লবন ও আদাকুচি দিয়ে অদা চা করে খাতে পারেন সব সময়। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত অদা খেলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় যদিও তা বিশ্ব সাস্থ সংস্থা সীকৃতি দেয়নি।

৪। মধু (Honey) :- শরীরের জন্য মধু খুব উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিক ভাবেই প্রমাণিত। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশ মন্টোজ। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। যৌন অক্ষমতা দূর করে এবং অটুট যৌবন ধরে রাখে। তাই এটি নিয়মিত খেতে পারেন। এতে করোনাভাইরাস আপনাকে সহজে আক্রমণ করতে পারবে না।

৫। অন্যান (Natural Food): – এছাড়াও আমলকি, মেথি, গোলমরিচ, লেবু , সবুজ শাক সবজি, প্রচুর পরিমান পানি পান করতে পারেন। যা আপনাকে সুস্থ রাখবে। আর একজন পূর্ণ সুস্থবান মানুষকে কখনো কোভিড-১৯ এর মতো বড় রোগও কাবু করতে পারবে না। তাই নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখুন ভেষজ খাদ্য গ্রহণ করার মাধ্যমে।

করোনা ভাইরাস (Covid-19) থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা উপরোক্ত প্রাকৃতিক খাদ্যগুলো নিয়মিত খাবো যাতে যাতে এই মরণঘাতিক ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করতে না পারে। মনে রাখবেন উপরোক্ত ভেষজ খাদ্যগুলো কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার প্রস্তুতি মাত্র। এটি চিকিৎসা নয়। রোগ আক্রান্ত ব্যাক্তিকে অবশই হাসপাতাল বা ডাক্তারের পরামর্শ (চিকিৎসা) নিতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি আপনি পার্থমিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের উপর সহায়ক হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *