স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের কাছে তোকমা দানা বেশ পরিচিত। আয়ুর্বেদিক ভেষজ চিকিৎসায় অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে তোকমা। তোকমার বৈজ্ঞানিক নাম হাইপ্টিস সয়াভেলেনস।  প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প পরিমাণ তোকমার দানা রাখলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। তোকমা বীজে রয়েছে ২৫% ফ্যাট (প্রায়), ২০% প্রোটিন, ৪২ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট এবং প্রচুর পরিমান ফাইবার।এর পাশাপাশি ওমেগা-৩, ফ্যাটি এসিডের অন্যতম উৎস এটি। আয়ুর্বেদ, চীনা ও ইউনানি মেডিসিনের ব্যবহার রয়েছে।

tokma-dana
আমাদের দেশে তোকমা খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বীজ দানা। ছোট কালো রঙের একটি বীজ তোকমা, যা মূলতপানিতে ভিজিয়ে রেখে শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, প্রোটিন, আয়রন ও ক্যালরি রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তোকমা এক প্রকার গুল্ম জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। তোমকা বীজ অসময়ে ক্ষুধা দমন, ক্ষুধার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। এই শরবত একই সঙ্গে দূর  পীড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য, করবে ক্লান্তি, পেটের প্রদাহ। তোকমা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীরকে সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে তোকমা অন্যতম কার্যকরী ভেষজ উপাদান।

তোকমা দানার বিশেষ ৭টি  গুনাগুন

১। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সহ উপকারী কোলেস্টেরল উৎপন্ন করে রক্তে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে আনে তোকমা। এটি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকর নতুন রক্তগঠন করে । মূলত দেহের বিপাকক্রিয়ার গতি ধীর করে দেয় তোকমা। নিয়ন্ত্রণ করে, সুস্থ হার্ট এবং হাড় গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন : নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

২।ওজন কমাতে

তোকমা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। তোকমার ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী যা ওজনকমাতে সহায়তা করে। আপনি যদি তোকমা দানা বাদাম ও শুকনো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে একমুঠো পরিমাণ খেতে পারেন, তাহলে  ক্ষুধামুক্ত থাকতে পারবেন দীর্ঘক্ষণ। তোকমা  আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করবে।

৩। দেহের তাপ কমায়

গরম আবহাওয়ার কারণে দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে কারণ তোকমা বীজে রয়েছে গরমে প্রতিরোধী সহায়তা করে। এ কারণে গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। আপনার দেহের  বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়তে সহায়তা করবে।তোকমা দানা শরবত টি সুস্বাদু করার জন্য বরফের টুকরা, চিনি, নারিকেল, মধু  এবং দুধ দেওয়া হয়

৪। কোষ্টকাঠিন্য দূর করে

তোকমা কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা খুবই কার্যকর।তোকমার পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামান্য তোকমা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর তা দুধে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।এই শরবত একই সঙ্গে দূর  পীড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য, করবে ক্লান্তি, পেটের প্রদাহ দূর করে।

৫। ত্বক ও চুল

তোকমা ত্বকের নানা সমস্যায় ব্যবহার করা যায়।তোকমার বীজ দিয়ে শরবত তৈরিসহ নানান উপায়ে খাওয়া হয় ভেষজ গুণাবলী পেতে, গুঁড়া করে ব্যবহার করা যায় রূপচর্চাতেও।এটি একজিমা ও সোরিয়াসিস নিরাময়ে কার্যকর। সুস্থ চুলের জন্য এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।তোকমা  নানা চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। চুলের জন্য তোকমা  নিয়মিতখেতে পারেন।

৬। ঠাণ্ডার সমস্যায়

তোকমা আপনার দেহকে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়তে সাহায্য করবে। শীত কালে তোকমার শরবত ভেতর থেকে শরীরকে গরমে রাখে। এটি সুস্বাদু করার জন্য চিনি, মধু এবং কোথাও কোথাও নারিকেল দুধ দেওয়া হয়। দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে তোকমা।

৭। এসিডিটি দূর করে

এসিডিটি দূর করতেও বেশি কার্যকরী তোকমা। তোকমা দানা পানিতে পরিপূর্ণ থাকে যা দেহের ক্ষতিকর পদার্থও দূর করতে সাহায্য করে। পেটের এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালাপোড়া দূর করে তোকমা। আপনি কিছুক্ষন পানিতে ভিজিয়ে রেখে শরবত পান করবেন এতে এসিডিটি দূর হবে।

আরো পড়ুন :যে ৭টি তেল চুলের যত্নে বেশি কার্যকরী

আমরা বলতে পারি তোকমা মানব দেহের বহুল উপকারিত একটি উপাদান , যা মানুষের বিভিন্ন প্রকার রোগের সমস্যার সমাধান করে থাকে। আমরা মানব দেহের সকল সমস্যা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরে থাকি। তাই আপাদের সুবিধার্তে এইপোস্ট গুলো তুলে ধরে থাকি। আমাদের পোস্ট সম্পর্কে কোনো মন্তব্য থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। এই রকম পোস্ট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। ধন্যবাদ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *