মন ভাল করার ১০টি শীর্ষ উপায়

মন !! মন ভালো থাকলে সব কিছু ভালো লাগে আর মন খারাপ থাকলে যেন সব কিছু বিষক্ত লাগে। আমরা প্রায় সকলেই চাই আমাদের মন যেন ভালো থাকে। কিন্তু বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে আমাদের মন খারাপ হয়ে থাকে। আজকে আমার আলোচনা করবো কিভাবে আমাদের খারাপ হওয়া মনকে ভালো রাখতে পারি।

বিভিন্ন কারণে আমাদের মন খারাপ হয়ে থাকে। মন খারাপ হওয়া থেকে দূরে থাকাটা সম্ভব নয়। সাধারণত আমাদের জীবনযাত্রা, কাজের চাপ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, জেনেটিক কারণ এবং মস্তিষ্কে কেমিকেল ইমব্যালেন্স প্রভিতি কারণে আমাদের মন খারাপ হয়ে থাকে। মন খারাপ হওয়ার কারণে কেউ মৃত্যু কাছে পৌঁছে আবার কেউ নেশায় আক্রন্ত হয়ে জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন ভাবে আমরা আমাদের মনকে ভালো রাখতে পারি। আজকে আমরা শীর্ষ ১০টি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো যাতে আমরা আমাদের মনকে ভালো রাখতে পারি।
মন ভাল করার ১০টি শীর্ষ উপায়
প্রথমত, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন (Talk to dear ones):- নিজের মনের মধ্যে কষ্ট চেপে রাখলে ব্যাপারটা আরো কষ্টদায়ক হয়ে উঠে। বুকে একটি পাথর চাপ দিয়ে রেখেছে মনে হয় । ধীরে ধীরে সেই যন্ত্রনাটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে কষ্টটা একটু বেশি পেয়ে থাকি। অপর দিকে, আপনি যদি আপনার মনখারাপ লাগার কথা প্রিয় মানুষদের সাথে শেয়ার করেন দেখবেন নিজেকে হালকা লাগতেছে। তাই মানসিক চাপের বিষয়গুলো নিয়ে প্রিয় মানুষদের সাথে আলোচনা করুন। এছারাও দেখবেন, কথা বলার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধানও বেরিয়ে আসে। আর সমাধান হলে মনো ভালো হবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যায়াম করুন (Doing Exercise) :- ব্যায়াম শুধু দেহকে সুস্বাস্থে রাখে না বরং মন ভালো রাখতেও ব্যায়াম বেশ উপকারী একটি মাধ্যম।মাত্র পাঁচ মিনিট টানা ব্যায়াম করলে এন্ড্রোফিন নামক হরমন নিঃসৃত হয়। যা ১২ ঘন্টা মন ভালো রাখতে আপনাকে সহায়তা করে। ব্যায়াম করতে জিমেই যেতে হবে এমনটি নয়। ঘরে করা যায় এমন ব্যায়াম করলেও তা আপনার মন মানসিকর উন্নতি ঘটাতে সহয়তা করবে। তাছাড়া অবসাদ দূর করার জন্য ব্যামের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। এজন্য মন ভালো রাখতে আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন।

তৃতীয়ত, নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন (Stay away from negative people):- নেতিবাচক মানুষ কখনো কারো ভালো চায় না। তাদের মূল লক্ষ্যই হলো যাকে সামনে পাবে তাকে টেনে নামানো। সুযোগ পেলে আপনাকেও ছাড়বে না। তারা সমালোচনা করতে বেশি ভালোবাসে। এই সমালোচনার প্রভাব আপনার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে। যার ফলে আপমার মন খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নেতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন লোকের থেকে যত দ্রুত সম্ভব এড়িয়ে চলা। এতে আপনার মন খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

চতুর্থত, পোষা প্রানীর সাথে সময় কাটান (Spend time with pets):- যারা গাছপালা, পোষা প্রানীকে পছন্দ করে দেখবেন তাদের মন নরম হয়ে থাকে । তারা সহজ সরল হয়, খুব কষ্ট কম পায়। আপনি যদি পোষা প্রানীর সাথে সময় কাটান তাহলে আপনার মন ভালো হবে । কেননা তখন আমাদের মাইন্ডের রিওয়ার্ড সার্কিট সক্রিয় হয়ে যায় যার কারণে আমাদের আমাদের মন খারাপ ভাবটা কেটে যায়। একটি গবেষনায় দেখা গেছে, বাড়িতে পোষা জানোয়ার থাকলে তার খেয়াল রাখতে গিয়ে এতটাই সময় চলে যায় যে খারাপ চিন্তা করার অবকাশ পাওয়াই যায় না।তাছাড়াও একট কেস স্টাডিতে এ কথাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যাদের বাড়িতে পোষা মাছ রয়েছে তারা যদি মন খারাপের সময় তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে মানসিক অবসাদ অনেকাংশেই হ্রাস পায়।

পঞ্চমত, কাজে ব্যাস্ত থাকুন (Stay busy):- ব্যাস্ততার মাঝে মন খারাপ হওয়া স্পর্শ করতে পারে না। কেননা অবসর সময়য়ের মতো দুঃশ্চিন্তাময় সময় আর নেই। এই সময় আসে নানা ভাবনা। আর এই ভাবনার থেকেই বেড়িয়ে আসে অনেক অপ্রাপ্তির তিক্ততার গল্প। আর একারণেই আমরা মন খারাপ করে বসি। কিন্তু আমরা যদি এ সময়কে নিজেকে কোনো কাজে ব্যাস্ত রাখি তাহলে আমাদের মনে হওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সেই সময় আমাদের চিন্তার সমস্ত কেন্দ্রবিন্দু থাকবে সেই কাজ। এভাবে আমরা আমাদের মন খারাপ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস করতে পারি।

ষষ্ঠতম, নিজেকে সময় দিন (Give yourself time): – আপনি যদি কোনো কিছুর যত্ন নেন তাহলে সে জিনিসটা অবশই সুন্দর হবে। আমরা শুধু কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সময় ব্যায় করি কিন্তু নিজের জন্য সময় ব্যায় করি না। নিজের মনকে সুন্দর করতে হলে নিজেকে সময় দিতে হবে। নিজেকে সময় দিলে নিজের যত্ম নিলে আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায় শতগুন। এতে মন আপনা আপনিই ভালো যাবে। তাই চেষ্টা করুন সব সময় আপনার মনকে ভালো রাখতে।

সপ্তমত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন (Stay away from social media): – সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি নেশা যা সিগারেট, মদ , গাজা , ইয়াবার চেয়েও ভয়ংকর। বর্তমানে আমরা জীবনের অনেকটা সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নষ্ট করতেছি। আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা না খেয়ে ফেইসবুক, ইউটিউবে সময় দিচ্ছি । যা ক্রমেই আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। তাছাড়াও সারাদিন কার কি করা হয়েছে বা কী চলছে সবই যেন সবাইকে জানানো চাই। অনেক ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের জীবনযাপন দেখেও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তেছি আমরা। মনে মনে ভাবতে থাকে ওর জীবন আমার জীবনের থেকে অনেক উন্নত, ও কত যায়গায় ঘুরতে যায়, ও আমার থেকে কত বড়লোক, কত ভালো ভালো রেস্টুরেন্টে খাবার খায় প্রভিতি ভেবে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। জীবনের প্রতি বৃতিষ্ণা চলে আসে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সর্বাত্বক ভাবে চেষ্টা করুন।

অষ্টমত, হাসির অনুষ্ঠান দেখুন (Look at the smile):- হাসলে মন খারাপ জানালা দিয়ে পালায় । মন ভালো রাখতে হাসির বিকল্প আর কিছুই নেই। হাসি এমন একটি জিনিশ যেটা আপনার শরীর চাঙ্গা করে তুলতে আপনাকে সাহায্য করে। কিন্তু মন খারাপ থাকলে তো আর শুধু হাসা যায় না, তাই না? এক্ষেত্রে আপনি হাসির অনুষ্ঠানমালা গুলো দেখতে পারেন। ড্রামা বা ট্রাজেডি সিরিজগুলা বাদ দিয়ে কমেডি সিরিজ দেখতে পারেন। এতে আপনি কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই পারবেন যে আপনার মন খারাপ ভাবটা আর নেই। মন ফুরফুরে লাগছে।

নবমত, শখের কাজ করুন(Work parlor):- মানুষের একটা গুন হলো শখের কাজটি বার বার করলেও মন খারাপ হয় না বরং আনন্দ লাগে। নিজের শখের বা পছন্দের কাজটি করলে মন খারাপ হওয়ার বিষয়টা চলে যায়। এক্ষেত্রে গান গাওয়া, ছবি আঁকা, পছন্দের বাদ্যযন্ত্র বাজানো, বাগান করা ইত্যাদি আপনার যেকোনো পছন্দের কাজ বেছে নিতে পারেন শখ হিসেবে। আপনার শখ যাই হোকনাকেন সেই কাজটি করুন। এধরনের কাজ একাধারে আপনাকে ব্যাস্ত রাখবে আবার আপনার মন খারাপও হওয়া থেকে নিজেকে রাখবে।

দশমত, পছন্দের গান শুনুন (Listen to favorite songs):- মনকে নিয়ন্ত্রণ করতেও গান মাঝে মাঝে বেশ ভূমিকা পালন করে। তাই মন খারাপ থাকলে নিজের প্রিয় গান শুনতে পারেন। এতে করে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন ‘স্যাড সং’ বা মৃদু লয়ের গান আপনার যতই প্রিয় হোক না কেন, মন খারাপ থাকলে এই ধরনের গান থেকে এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা মন খারাপ অবস্থায় স্যাড সং আপনার মন খারাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। বাংলায় একটা কথা বলে “আগুনে ঘি ঢাললে যেমন আগুনের মাত্রা বৃদ্বি পায়” তেমনি অবস্থা হবে । তাই পছন্দের শুদ্ধ গান গুলো শুনতে থাকুন । ভালো গান শোনার ফলে শরীরে ডোপামিন নামক একটি হরমন নিঃসৃত হয় যা মন ভালো করে তুলতে সাহায্য করে।

এছাড়াও আমরা খেলাধুলা করে আমাদের মনকে ভালো রাখতে পারি। বাচ্চাদের সাথে খেলতে পারি, সুন্দর প্রকৃতি দেখতে পারি, কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারি। নিয়মিত মেডিটেশন করাটা আমার কাছে সর্বোত্তম মনে হয়। সৎ মানুষ ও শ্রষ্টার প্রার্থনা করার মাধ্যমে মন সবচে পবিত্র থাকে। এতে আপনি সবসময় ভালো থাকবেন। আমাদের পোস্টি কেমন হয়েছে যানিয়ে একটি কমেন্ট করবেন। ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের জন্য শেয়ার করতে পারেন।  যাতে আমাদের সবার মন ভালো থাকতে পারে।